এক পাতা
তিন.
নীল তিমি
তিমিকে মাছ বলে সবাই তিমি কিন্তু মাছ না। মাছের কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই তিমির মধ্যে। পৃথিবীতে নানান প্রজাতির তিমি আছে : কিলার তিমি, নীল তিমি, পাইলট তিমি, হাম্পব্যাক তিমি, বেলুগা তিমি, ফিন তিমি, গ্রে তিমি ইত্যাদি। এদের মধ্যে সব থেকে বড় হচ্ছে নীল তিমি।
একটা নীল তিমির ওজন কত ধারণা করতে পারো?
নীল তিমির জিভের ওজনই একটা হাতির ওজনের সমান। এটা এত বড় যে একটা ফুটবল টিমের সবাই দাঁড়াতে পারবে অনায়াসে। এর হৃৎপিণ্ড একটা প্রাইভেট কারের সমান। তাহলে ভাবুন তো এই তিমির ওজন কত হবে? এদের ওজন প্রায় ২০০ টনের মতো, যা কি না আফ্রিকার পূর্ণবয়স্ক ৪০ হাতির সমান। নবজাতক নীল তিমিও কম যায় না! সেও বিশ্বের সব থেকে বড় নবজাতকের স্থান দখল করে আছে। ওজন প্রায় তিন টন।
স্তন্যপায়ী প্রাণী হলেও নীল তিমি থাকে পানিতে। তবে তাকে অক্সিজেন গ্রহণ করার জন্য একটু পরপর পানির ওপরে ভেসে উঠতে হয়। নীল তিমিকে পানির নিচে নীলই দেখায়। তবে পানির ওপরে ভেসে উঠলে দেখা যায় তার শরীর জুড়ে নীলচে ধূসর ছোপ।
এত বিশাল যে প্রাণী সে কী খায়? কতটুকু খায়? এই প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। এরা সাধারণত ‘ক্রিল’ নামের অতিক্ষুদ্র এক ধরনের মাছ খেয়ে থাকে, যা দেখতে অনেকটা চিংড়ির মতো। দিনে অন্তত চার টন খাবার খেয়ে থাকে। সংখ্যায় প্রায় ৪০ মিলিয়নের বেশি।
বিশাল এই মাছটি যখন সাগরের বুকে এঁকেবেঁকে চলতে থাকে, তখন সে এক গ্রাসেই খেয়ে নেয় হাজারো ‘ক্রিল’। বিশালাকার এই প্রাণীটির দাঁত নেই। আছে ব্যালিন, যা দেখতে অনেকটা ঝালরের মতো। এই ব্যালিন ফিল্টারের কাজ করে। ওপরের চোয়াল থেকে নিচের চোয়াল পর্যন্ত ঝুলে থাকে এই ব্যালিন। মোট ৩০০ ব্যালিন প্লেট রয়েছে, যার একেকটির দৈর্ঘ্য তিন ফিটেরও বেশি। নীল তিমি যখন হাঁ করে, তখন মাছের সঙ্গে একরাশ পানিও তার মুখে প্রবেশ করে। তারপর ফিল্টারের মাধ্যমে পানিগুলো বের করে দেয় আর মাছগুলো থেকে যায়।
নীল তিমিকে খুব কমই দল ধরে ঘুরতে দেখা যায়। সে বেশির ভাগ সময় একা ঘুরতেই পছন্দ করে। ঘণ্টায় পাঁচ মাইলের থেকে বেশি সাঁতার কাটে তারা। তবে যদি কোনো কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে যায়, তবে সেটা ঘণ্টায় ২০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
দেহের আকৃতির মতো তাদের শব্দও হয় অনেক জোরে। বলা হয়ে থাকে, প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে জোরে শব্দ করতে পারে নীল তিমি। তাদের তীব্র শব্দ একটা জেট ইঞ্জিনচালিত বিমানের শব্দের থেকে বেশি। শব্দের তীব্রতা প্রায় ১৮৮ ডেসিবল। মানুষের পক্ষে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবলের বেশি শব্দ শোনা অত্যন্ত কষ্টের। এক তিমি অন্য তিমির শব্দ প্রায় ১০০০ মাইল দূর থেকে শুনতে পারে।
দীর্ঘদিন বাঁচে নীল তিমি। গড়ে তাদের আয়ু ৮০ থেকে ৯০ বছর। সব থেকে বেশি বয়স্ক যে নীল তিমি খুঁজে পাওয়া গেছে, তার বয়স ১১০ বছর।
পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরে এরা রাজার মতো ঘুরে বেড়ায়। যেমন : অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউ ফান্ড ল্যান্ড, নোভা স্কশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে দেখা যায় নীল তিমি। প্রশান্ত মহাসাগরে কোরিয়ান কিছু উপদ্বীপের কাছে দেখা যায়। আবার দক্ষিণ গোলার্ধে অ্যান্টার্কটিকা, ওশেনিয়া মহাদেশেও দেখা যায় তাদের।
অতিরিক্ত শিকারের কারণে বিশ্বব্যাপী নীল তিমির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে কয়েক বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন পরিবেশবাদীরা।
++++++++++++++++++++++++++++++
'(সম্পাদনা ডেস্ক কতৃক সংকলিত)
'এক পাতা' শিশুকাগজের সাপ্তাহিক ফিচার। যে কেউ এই পাতার জন্য তথ্যসমৃদ্ধ লেখা পাঠাতে পারবেন।


Comments
Post a Comment