ছোট গল্প
হারানো মানিক
শিহান রিশাদ
সকাল দশটা বাজে। বাংলা ক্লাস চলছে। দুই মিনিট পরে টিফিন ছুটি শুরু হবে।
মানিক অপেক্ষা করছে সেই দুই মিনিট কখন শেষ হবে। হঠাৎ ঘন্টা বেজে উঠল। মানিক তাড়াতাড়ি তার ব্যাগ থেকে তার টিফিন বক্স বের করল।
সে যত দ্রুত খেতে পারে ততো দ্রুত খাওয়ার চেষ্টা করল। কারণ এর পরের তিন পিরিয়ড ক্লাস হবে না। তখন তারা শিক্ষা সফরে যাবে।
টিফিন পিরিয়ড শেষ হলো। এবার বের হবার পালা। তারা একজন একজন করে বের হলো। মানিক সবার মাঝখানে।
তারা যখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছে তখন খবর পেল যে আজকে তাদের বাসটা আসতে পারবেনা। তাই তাদের হেঁটে হেঁটে যেতে হবে। তারা ঠিক যেভাবে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিক সেরকম করে লাইন ধরে চলতে লাগল।
চলতে চলতে হঠাৎ মানিক আনমনা হয়ে যায়। সে ভাবতে ভাবতে অন্যদিকে চলে গেল- এত ছাত্রের মধ্যে টিচাররা তাকে দেখতে পেলেন না।
শিক্ষা সফর শেষে দেখা গেল বাসটি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। তখন সবাই বাসে চড়ে স্কুলে ফিরে আসলো। স্কুলে ফেরার পর টিচাররা যখন সবার নাম ধরে ডেকে উঠছিল তখন মানিককে পাওয়া গেল না।
সব জায়গায় খোঁজা হলো কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না। তখন তার বাবার অফিসে ফোন করা হলো। ফোনে কিছুক্ষন রিং পড়ার পর মানিকের বাবার গলার স্বর শোনা গেল।
"হ্যালো"
"আপনার ছেলেকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আপনি একটু থানায় খবর দেন।"
এটি শোনার পর মানিকের বাবা থানায় ছুটে গিয়ে খবর দেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়ে দেন।
এদিকে যখন এতো হইচই চলছে তখন মানিক টের পেল যে সে দলছুট হয়ে গেছে। তার পকেটে মা- বাবার ফোন নাম্বার এবং বাসার ঠিকানা আছে। কিন্তু রাস্তার মানুষজনকে সে চেনে না। তাই সে বুঝলো কারো ফোন থেকে বাসায় ফোন দেয়ার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।
তবে বাসার ঠিকানার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল সে কালকে গুগল ম্যাপে স্কুল থেকে বাসায় আসার পথটা দেখেছিল। সে তখন সেই রাস্তার কথা মনে মনে ভাবতে ভাবতে হাঁটতে হাঁটতে বাসার সামনে পৌঁছে গেল।
তখন তার কি যে আনন্দ হল বলে বোঝানো যাবে না। সে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল দিল। দেখল মা দরজা খুলেছে। মানিক দেখল মার মুখ কান্নায় লাল হয়ে আছে। তখন সে মাকে জড়িয়ে ধরল। মা তখন ফোন করে বাবা এবং সবাইকে জানিয়ে দিল- আমার মানিক ফিরে এসেছে।
Comments
Post a Comment