প্রজ্ঞা মৌসুমীর গল্প
ওরাংওটাং ও দেয়ালঘড়ি
তুতুলরা ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসে। সব ভাইবোনরা মিলে অনেক মজা করে, ধানক্ষেতে লুকোচুরি খেলে, আম বাগানে দৌড়ুয়, নৌকো চড়ে, দুপুরে পুকুর পাড়ে রোদ পোহানো কচ্ছপ ধাওয়া করে, লিচু গাছে উঠে লিচু চুরি করে। তবে জ্যাঠু দেখলেই বলবে- ‘এই ওরাংওটানের দল পড়তে বস! শুধু দুষ্টুমি!' ছু্টিতেও বই পড়তে ভালো লাগে কারো!
আজ সকালে হলো আরেক কাণ্ড। বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে জ্যাঠু দেখে বৈঠক ঘরে পেন্ডুলাম ঝুলানো বড়ো দেয়াল ঘড়ির কাঁচটা কেউ ভেঙ্গে ফেলেছে। চেঁচামেচি শুরু করে দিলো জ্যাঠু- ‘কোন ওরাংওটান করেছে এটা। কতোবার বলেছি বল নিয়ে বাড়িতে খেলবি না। মনে থাকে না? এমন মার দেব যে জীবনেও ভুলবি না। কে করেছিস এটা? বল এক্ষুণি।’ ভয়ে সবার মুখ দেখতে এমন হলো যেন ঘড়িটা সেইই ভেঙেছে। ওদের মধ্যে সবথেকে বড়ো বাচ্চা আর সবথেকে দুষ্ট বাচ্চা হলো দিহান। দিহানই শুধু জ্যাঠুকে বাবা বলে ডাকে। জ্যাঠু ওকেই ধরলো- ‘আয় পাজি। নাটের গুরুটাই তুই। সবগুলাকে ওরাংওটাং বানাচ্ছিস।'
সব পিটুনি দিহানই খেলো। কাঁদো কাঁদো মুখে তুতুল পরে জিঞ্জেস করেছিলো- 'ভাইয়া কেন মার খেলে? তুমি তো ভাঙনি।' দিহান বলেছিল- 'তোরা ছুটিতে বেড়াতে আসিস। মন খারাপ করে ঘুরবি তা হবে না। আমি বাবার পিটুনি কত খাই। আমার কিচ্ছু হয় না।'
তুতুলের কিন্তু মন খারাপ হলো। ভাইয়া শুধু শুধু মার খেলো। ওর ভয়টা কোথায় যে হারিয়ে গেলো। তুতুল আস্তে আস্তে জ্যাঠুর ঘরে যায়। জ্যাঠু তখন বিছানায় বসে পান খাচ্ছেন। তুতুল মাথা নিচু করে বলে, 'ঘড়িটা আমি ভেঙেছি জ্যাঠু। ইচ্ছে করে করিনি। আমাকে মার দিন।' জ্যাঠু চশমার ফাঁক দিয়ে অবাক হয়ে তাকালেন। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললেন- 'সত্যিটা যে বললি, দোষ স্বীকার করলি, খুব খুশী হলাম। আর ঐ ওরাংওটাংটা সবার হয়ে মার খেলো এটা ভেবেও আমি মুগ্ধ। আমার ওরাংওটাংগুলা এতো ভালো কে জানতো!'
বিকেলে জ্যাঠু হাঁক দিল, 'এই চল সবকটা ওরাংওটাংরে রসমালাই খাওয়াতে নিয়ে যাই।'

Comments
Post a Comment