ফাহ্‌রিয়াল রহমানের কলাম

 খালামণির নলেজ বক্স



ছোটোখাটো এক ব্যাগ ভর্তি চকলেট ইনাইনার সামনে মেলে ধরে আইনান।
 - আপি চলো দুজনে ভাগ করে নেই। আম্মু বলেছে  যার যেটা পছন্দ সে সেটা নেবে। 

বলেই লম্বা টুইক্সের বারটা খপ্ করে তুলে নিলো।

ইনাইনা কিছুতেই বুঝতে পারছে না এত্তো চকলেট কোথা থেকে এলো। 
- আচ্ছা সেটা দুজনে মিলেমিশে করা যাবে। চকলেট কোথা থেকে এলো?  
- আম্মুর ফ্রেন্ড রিমি আন্টির ভাই নিয়ে এসেছেন আমেরিকা থেকে, স্পেশালি আমাদের জন্য ।
- ও আচ্ছা... এখন সব একজায়গায়  রাখোতো। 

টেবিলের উপর সবগুলো ঢেলে খুব মনোযোগ দিয়ে চকলেট গুলো দেখতে থাকে। 
- উফফ চকলেট আবার অতো দেখার কী আছে, যেটা ভালো লাগে নিয়ে খাও। ব্যাস হয়ে গেলো। 
- আরে প্রতিটা জিনিসই খাওয়া বা ব্যবহারের আগে দেখে নিতে হয়। দেখ এই চকলেট গুলো কিন্তু  স্পেশাল সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে।
- কি জানি বাবা! 
বেশ পাকামো ক'রে বলেই একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে আইনান । 

ইনাইনা বুঝতে পারে চকলেট খাওয়ার জন্য কতটা অস্থির হয়ে আছে ভাইটি।
- দেখ এই চকলেটটা আগে দেখিনি, এটাও...  এখান থেকে আমি দুই একটা খাবো বাকি সব তোমার। কিন্তু একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। সবগুলো একসাথে সাজিয়ে আম্মুর মোবাইলে জাস্ট একটা ছবি তুলে  খালামণিকে পাঠিয়ে দেই ।

ওর স্পষ্ট মনে আছে গত জুলাই মাসেই খালামণি বলেছিল  চকলেট দিবস উপলক্ষে ওর এক বন্ধু এক বক্স চকলেট পাঠিয়েছে । চকলেট সম্পর্কে কিছু না কিছু তো জানা যাবে খালামণির কাছ থেকে । ছবি তুলে একটা হারশের চকলেট বার নিয়ে ভাইকে সব চকলেট দিয়ে দেয় ইনাইনা। 

আইনান চকলেটের ব্যাগ হাতে দে দৌড়। বোনের মন পালটে যাওয়ার আগেই সে অদৃশ্য হয়ে গেল। বোনের সামনে থাকাটা এমুহূর্তে তার খুব নিরাপদ  মনে হলো না।
 
চকলেট সম্পর্কে সংক্ষেপে যা কিছু জানা গেল:

## কোকো বা কোকোয়া দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যাকার উদ্ভিদ । তার বীজ থেকে চকলেট তৈরি হয়।

## চকলেট মূলত মায়া ও অজটেক সভ্যতার অবদান। 

## কোকোয়ার বৈজ্ঞানিক নাম 'Theobroma cacoa'   গ্রিক ভাষায় Theos মানে দেবতা broma এবং  মানে খাদ্য অর্থাৎ দেবতার খাদ্য।

 ## আদিতে পবিত্র এবং সম্মানজনক পানীয় হিসেবে চকলেট এর ব্যবহার শুরু হয়।

##  একসময় কোকো বিন মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো ।

## আধুনিক চকলেটের জনক জোসেফ ফ্রে ১৮৪৭ প্রথম চকলেট পেস্ট তৈরি করেন।

##  ইউরোপে প্রথম স্পেনে চকলেটের পদার্পণ ঘটে।১৫০০ এর দশকের শেষভাগে স্প্যানিশ দরবারে এটি বেশ সমাদৃত হয়।

## সহসাই ইউরোপ জুড়ে চকলেট ম্যানিয়া ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদা হু-হু করে বাড়তে থাকায় কোকোর চাষাবাদ ও  চকলেট উৎপাদনে খাটতে থাকেন হাজারো ক্রীতদাস।

## সাধারণত তিন ধরনের চকলেট দেখতে পাওয়া যায় -- মিল্ক চকলেট, তিতকুটে চকলেট এবং হোয়াইট চকলেট ।

## ৭ জুলাই বিশ্ব চকলেট দিবস। ধারণা করা হয় ইউরোপে ১৫৫০ সাল থেকে এ দিনে চকলেট দিবস পালিত হয়ে আসছে।

## ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় চকলেট দিবস পালিত হয় ।

## পৃথিবীর অনেক দেশই চকলেটের জন্য বিখ্যাত। এরমধ্যে বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত।

## টবলেরন, সুইস আর্মি, নেসলে সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় চকলেট । স্পেনের - ভ্যালোর,ট্রিমা। বেলজিয়ামের- নির্ভানা, গদিভা । স্নিকার্স ,হারশে, টুইক্স, মিল্কিওয়ে হলো সবচেয়ে বেশি চকলেট তৈরির দেশ আমেরিকার ব্র্যান্ড চকলেট।

Comments

Popular posts from this blog

তারেক অণু