Posts

বিশ শতকের সৌভাগ্যবান লাজার সিলবারিস

Image
কোনটা যে সৌভাগ্য আর কোনটা দুর্ভাগ্য সেটা মাঝে মাঝে গোলমাল পাকিয়ে যায়। আজকে যে লোকটা ভাবছে সে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভাগা, আগামীকাল হয়তো সেই লোকটাই নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে ভাগ্যবান হিসেবে দেখতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মার্তিনিক দ্বীপের বাসিন্দা লাজার সিলবারিস ছিল সেরকম বিরল ভাগ্যবান এক মানুষ। বিশ শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান লোক বলা হয় তাকে।  ১৯০২ সালের ৭ মে তারিখেও ওই দ্বীপের সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ ছিল ২৬ বছর বয়সের সিলবারিস। ভয়ংকর সব অপরাধের কারণে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল দ্বীপের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য কারাগারের নির্জন এক গুহায়। পাহাড়ের গায়ে নির্মিত ওই কারাগারে নিঃশ্বাস নেবার জন্য শুধু সামনের অংশে ছোট্ট ফোকর বাদে আর কোন দরোজা জানালা ছিল না। ওই কারাগার থেকে জীবনেও পালানো সম্ভব নয়।  কিন্তু তার ভাগ্যে লেখা ছিল অন্য কিছু। ১৯০২ সালের ৮ মে তারিখ সকালে ভয়ানক এক অগ্ন্যুৎপাতে  মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ওই দ্বীপের ৩০ হাজার বাসিন্দার সমাধি হয়েছিল উত্তপ্ত লাভার নীচে। চারদিন পর ধ্বংসস্তুপ থেকে আধপোড়া অবস্থায় শুধু একজনকে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছিল। তার নাম লাজার সিলবারিস। দুর্ভেদ্য পাথরের কারাগারই তাঁকে রক্ষা...

তারেক অণু

Image
কাঠ ঠোকরার মজার কথা আজ সকালে হাঁটতে যেয়ে এক জোড়া সোনালী পিঠের কাঠঠোকরা দেখে নেটে দেখা এদের সেই জিহ্বার কথা মনে পড়ল, অবিশ্বাস্য লম্বা জিহ্বা, সেটি খুলির সাথে কিভাবে যে পেচিয়ে থাকে সেটা ছবি না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। এদের জিহ্বা শুরু হয় কপাল থেকে, একেবারে পেঁচিয়ে তারপরে চঞ্চু দিয়ে বের হয়। আমরা যেটা দেখলাম বা সাধারণত আপনি যেটা দেখেন সেটার নাম কিন্তু বাংলার নামে বাংলা-কাঠঠোকরা, (Black-rumped Flameback, /Dinopium benghalense)। কয়েক হাজার বছরের পুরোনো ধাঁধা হচ্ছে কাঠঠোকরার ঠকঠকে মানুষের মাথা ধরে যায় তাহলে কাঠঠোকরার কী হয়? এখন আমরা জানি তাদের কিছুই হয়না এই শব্দ তাদের মগজ পর্যন্ত সেই ভাবে আঘাত হানে না। কিন্তু এই সমস্ত গবেষণা করতে যেয়ে মানুষ পেয়েছে বিস্ময়কর একেবারেই অবিশ্বাস্য সব তথ্য- একটি কাঠঠোকরা সেকেন্ডে ২০ বার ঠোকরাতে পারে, কিন্তু এরচেয়েও অনেক বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে তারা কত গতিতে এই ঠোকরটা দেয়, কোন বস্তুর পতনের সময় তার উপর কাজ করা g ফোর্স তো আপনাদের সকলের খেয়াল আছে যে ৯.৮১ মিটার/সেকেন্ড, একজন মানুষ যেখানে ৬০/১০০ g ফোর্স পর্যন্ত নিতে পারে ফাইটার বিমানের পাইলট বা মহাকাশচ...

আতনিন বিন জহির

Image
জাপানের আইনু উপজাতি  আইনু কারা? :  আইনুরা হলো পৃথিবীর এক বিপন্ন জাতিগোষ্ঠী। তারা জাপানের উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ এবং রাশিয়ান সাখালিন ও কামচাটকা ক্রাই এর আদিবাসী। আইনুরা জাপানের সবচেয়ে প্রাচীন এবং একমাত্র আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী। মূলত জাপান একটি হোমোজেনাস বা সমজাতীয় মানবগোষ্ঠী অধ্যুষিত মানুষের দেশ, সেখানে জাপানিজরা জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ। সে দেশের আইনুদের উৎস, ইতিহাস, ভাষা, ধর্ম এবং উত্থান-পতনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিচ্ছি। উৎপত্তি:  আইনুদের উৎপত্তি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট নয়, তবে তারা হাজার হাজার বছর ধরে জাপানে বসবাস করছে। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা যে তারা সাইবেরিয়া বা কোরিয়া থেকে জাপানী দ্বীপপুঞ্জে আসে। প্রায় ৪০০০০ বছর আগে জাপানে প্রথম পা দেয় এই জনগোষ্ঠীর মানুষ, এরা ছিল শিকারী  ও সংগ্রহকারী (Hunter-gatherers), অর্থাৎ, যারা প্রাণী শিকার করে এবং ফল সংগ্রহ করে বেঁচে থাকার জন্য। শিকারি গোষ্ঠীগুলি এখন 'জোমন মানুষ' হিসাবে পরিচিত এবং জাপানের ইতিহাসের জোমন  যুগের (14,000-300 BC) সাথে সংযুক্ত।  জোমন যুগে তারা মৃৎশিল্পের একটি বিশেষ শৈলী গড়ে তোল...

হারুন রশীদ

Image
বসনিয়ার পিরামিড  রহস্যের শেষ নাই। বসনিয়াতেও তিনখানা পিরামিডের খোঁজ পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন এক গবেষক। ঘটনা সত্য হলে পৃথিবীর ইতিহাস উল্টে যেতে পারে। ২০০৫ সালের কথা। সেমির ওসমানাগিচ নামের বসনিয়ার এক সৌখিন গবেষক ঘোষণা দিলেন তিনি ভিসোকো শহরের প্রান্তে একটা পিরামিড আবিষ্কার করেছেন। তিনি মায়া এবং অ্যাজটেক সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি করেছেন। পৃথিবীর সবগুলো পিরামিড তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। বসনিয়ার সেই  ১১৮০ ফুট উুঁচু পাহাড়টা পিরামিড অব দ্য সান নামে পরিচিত। কিছুদিন পর তার পাশাপাশি তিনি আরো দুটি পিরামিড আবিষ্কার করলেন। মোট তিনটা পিরামিডের আকৃতি একই জায়গায়। যেগুলো এখন ঝোপঝাড়ের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। তাঁর দাবী ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার করলে ওই পিরামিডগুলো দেখতে মিশরীয় পিরামিডের মতো দেখাবে। তিনি মনে করেন এই পিরামিডের বয়স ১২০০০ বছর পুরোনো। এই পিরামিড এবং মিশরের পিরামিড একই কারিগরের তৈরি হতে পারে। যদিও দুই পিরামিডের বয়সের পার্থক্য ৭ হাজার বছর। তাঁর এই দাবী পৃথিবীর প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের মধ্যে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনা সত্যি হলে মানবসভ্যতার বর্তমান হিসেব সব উল্টে যেতে পারে। তাই অনেক গবেষক তার এই অ...

পাতকুয়া : কীর্তিনাশা নজরুল

Image
  ঝিম ধরা গ্রাম্য দুপুরে নির্জন এক বাগানে রাসেল একা একা লাকড়ি কুড়াচ্ছে। কাছেই লতা-গুল্মে ভরা এক জায়গায় অতি প্রাচীন এক পরিত্যাক্ত পাতকুয়া। বহুকাল হয়ে গেছে এ কুয়া কেউ ব্যবহার করে না। গ্রামে এখন বাড়িতে বাড়িতে টিউবওয়েল বসে গেছে। তাই পাতকুয়ার খবর এখন আর কে রাখে ?রাসেল গুনগুন করে গান গাচ্ছে আর লাকড়ি জমাচ্ছে। এমন সময় সেই প্রাচীন পাতকুয়ার ভেতর থেকে কেমন খল-খল, ছড়-ছড়, ঘড়-ঘড় আওয়াজ উঠলো। রাসেল কান খাড়া করে শুনে বোঝার চেষ্টা করলো আওয়াজটা কিসের। কিন্তু কিছু বুঝতে পারলো না। ওদিকে আওয়াজটা আরো জোরালো হচ্ছে। রাসেল এবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। আর তাকিয়েই ভয়ে জমে গেল। কুয়ার মুখে একটা বুড়ো মানুষের মুখ দেখা যাচ্ছে। মাথায় তার খানিকটা লম্বা সাদা ভেজা চুল। দু’হাত দিয়ে সে কুয়ার দেয়াল ধরে ঝুলে আছে। মুখে তার কেমন যেন হাসি লেগে আছে। বুড়ো লোকটা গলা খাকাড়ি দিয়ে বলে – ও মিয়া ভয় পাইলা নাকি ? ভয় পাইয়ো না। আমি দূর দেশে থাকি। এদিকে ঘুরতে আইসা ভুল কইরা কুয়ার মইধ্যে পইড়া গেছি। কাছে আইসা আমারে ধইরা একটু উঠাও দেখি ! রাসেল ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে – আপনের চুল এমন সাদা আর লম্বা কেন ? বুড়ো বলে – ওরে ভাই, আমার বয়স হইছে তাই চুল সাদা ...

নিলয় নন্দী: থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে

Image
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে পুলু একের পর এক ঢিল ছুড়তে থাকে পানিতে। কেন ছোড়ে সে নিজেও জানে না। একটা চ্যাপটা ঢিল পেলে না হয় ব্যাঙ-লাফ খেলা যেত। কিন্তু তেমন কোন ঢিল সে হাতের কাছে খুঁজে পায় নি । কেন যেন ভীষণ কান্না পাচ্ছে তার। ইচ্ছে করছে সোয়েটারের লম্বা হাতাসহ হাতটা পানিতে ডুবিয়ে দেয়। খুব ঠাণ্ডা লাগুক তার, জ্বর হোক, মরে যাক। তাহলে মা’র ভালো একটা শিক্ষা হবে। মায়েরা সব এমন হয় কেন?কী হয়েছে খোকা? কাঁদছ নাকি? পুলু ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়। সেই অদ্ভুত লোকটা তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। একটু ভয় ভয় লাগে তার। এক দৌড়ে কি বাসায় ফিরে যাবে সে? লোকটা গায়ের চাদর ভালো করে পেঁচিয়ে নিয়ে আবার হাসে, মন খারাপ? আমি কিন্তু মন ভালো করার ওষুধ জানি। কী ওষুধ? বাহ! এই তো কথা ফুটেছে মুখে। লোকটা পাশ থেকে একটা ঢিল কুড়িয়ে নেয়। ব্যাঙ-লাফ খেলছিলে তো? আমি এই খেলা শিখেছিলাম আমার এক চাচার কাছ থেকে। উনি এক ঢিলে দশবার পর্যন্ত জাম্প দিতে পারতেন। হাতের ইটের টুকরোটা ছুড়ে মারতেই সেটা পুকুরের পানি ছুঁয়ে ছুঁয়ে সামনে ছুটে চলে। পুলু গুনে দেখল মোট ছয়বার লাফ খেয়ে তবেই ঢিলটা পানিতে ডুবল। এসো, এই ঘাটের পাশে বসি। দেখবে মন ভালো হয়...

ময়ূরী মিত্রের গল্প

Image
কাঁদে না দজ্জাল   সে বার বহুদিন অনুপস্থিতির পর জলদি জলদিই মায়ের হাত ধরে স্কুল চলে এল দজ্জাল | গেটে ঢোকার মুখে দেখি ---স্কুলের পাঁচিলে বসে মায়ের ফোন নিয়ে কার কাছে যেন তার স্কুলকর্মের ধারাবিবরনী দিচ্ছে | তার মা বললেন ---ফোনে তার পিসি | স্কুলে এসে পিসিকে ফোন করা চাইই তার | আমি ঢুকতেই ফোনের ওপারে পিসিকে বলল ----" ওই ময়ূরী এল | আজ পড়াশুনো গেল আমাদের |" বুঝুন ----

মাহবুব আজাদের ছড়া

Image
হোঁদড় যাবে বিলেতে   র টলো খবর, নয় কেনিয়া, উগাণ্ডা বা চিলেতে শিখতে হাসি সোঁদরবনের হোঁদড় যাবে বিলেতে। বিমান-সরাই-প্রশিক্ষণের খরচ কোটির ওপরে লক্ষদশেক খসবে আরও খাবার-কাপড়চোপড়ে। খর্চা আরও বিলেতি রং-ঢঙ্গে তাকে সাজাবার... বনজনতার পকেট থেকেই পয়সা যাবে যা যাবার। পক্ষী-পশু বেজায় নাখোশ এ নিয়ে মাসখানেকই হাসতে শেখার জন্যে আবার বিলেত যাবার মানে কী? ট্রেনিং ছাড়াই সমস্ত দিন গা-জ্বালানো শব্দে সে চলছে হেসে, যেমন হাসে বনের হোঁদড় সব দেশে। বাঁদর যখন বক্তিমা দেয়, ঠুমরি সাধে মহিষে শিক্ষাবিনাই তখন হাসে হিহিহোহোহোহি সে। ফেসবুকেও ভারিক্কি সব প্রবন্ধ আর থিসিসে যায় দাগিয়ে একটা করে 'হাহা' দিবানিশি সে। আর তাছাড়া উচ্চশিক্ষা হয় নিতে তো এ নিয়া শিখতে যাবি তানজ়ানিয়া, উগাণ্ডা, বা কেনিয়া। আফ্রিকাতে খান্দানি সব হোঁদড় হাসে দল বেঁধে হাসির ওপর শিক্ষা তারা দেবার যা তা অল্পে দেয়।    বল-খেলাটা শিখতে গেলে কেউ কি যাবে হাভানা? কম খরচে শেখায় যদি ব্রাজ়িল-কোপাকাবানা? পাহাড়চড়া শিখতে কি কেউ বিলেত যাবে এ কালে? শিক্ষা যখন সস্তা মেলে হাতের কাছে নেপালে? "কোটির ওপর খর্চা করে বিলেত যাবি ক্যানো রে?" পক্ষীপশু ব্যস্ত থাকে এসব...

বাদুর কেন রাতেই শুধু ওড়ে

Image
ভাষান্তর: নাহার তৃণা বনের ইঁদুর আর বাদুরের মধ্যে ভারি বন্ধুত্ব। যখনই সুযোগ পায় দুই বন্ধু গপ্পো করতে বসে। রোজ ওরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করে। এত বন্ধুত্ব থাকার পরও বাদুর মনে মনে ইঁদুরকে হিংসে করতো। ইঁদুর মাটিতে কেমন দিব্যি ছুটে বেড়ায়। সে বেচারী সেটা পারে না। বাদুরটা কিন্তু এটা ভেবে দেখেনি, সে পাখি না হয়েও পাখির মতো উড়তে পারে ইঁদুর সেটা পারে না। আর ওসব নিয়ে ইঁদুরটার কোনো দুঃখও নেই। বাদুরকে সে সত্যিই বন্ধুর মতো ভালোবাসে। বন্ধুকে কেউ হিংসে করে নাকি!

ফাহ্‌রিয়াল রহমানের কলাম

Image
খালামণির নলেজ বক্স  কোভিড কমে আসায় ২০২২ সালটা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে শুরু হলেও সারা বিশ্ব জুড়ে সময়টা কেমন যেন অন্য রকম যাচ্ছে। কোথাও থম মেরে আছে তো কোথাও উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর একটু শান্তির আশায় প্রার্থনার জমিনে। কোনো দেশ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে আছে। কোনো দেশ গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে পর্যুদস্ত। কিছু দেশ আবার আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত। এই হলো আমাদের বিশ্বের বর্তমান অবস্থা। বিশ্ব ছেড়ে আসি আমার প্রিয় স্বদেশে; সেখানেও অস্থিরতা।করোনার তান্ডবের পর ডেঙ্গু তারপর বন্যা,আরো কত-শত বিপদ আপদ।খুব একটা ভালো নেই সাধারণ মানুষ। আচ্ছা বড়দের নানা অস্থিরতার আঁচ কি তোমরা টের পাও? আমি যেমন ছোট বেলায় আব্বু-আম্মুর নীরব ঝগড়ার ঝাঁজটা আম্মুর মধ্যে মাঝে মাঝে বেশ টের পেতাম। এই যেমন অহেতুক আমাদের বকাঝকা বা একটু বেশি করে পড়া ধরা আরো কতকিছু! হা হা হা! দেখ! এই কথায় আমার এখন শৈশবের বর্নিল সব ঘটনার কথা মনে পড়ছে। কত মজার ছিলো সেসব দিন। কী অনাবিল আনন্দের! আর ছোট থেকেই আমার অভ্যাস একটা বই পড়া শুরু করলে সেটা শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কোনো কাজে মন দিতে পারিনা। নিজের ক্লাসের বই, গল্পের বই ছাড়াও ভাই বোনদের ক্লাসের বইও সমান আগ্রহ নিয়ে পড়তা...

ময়ূরী মিত্রের গল্প

Image
মা নৌকোয় খুকু মাঝি  ১ নৌকায় দুলতাম ৷ জল বাজাত বাজনা --ছলাৎ ছলাৎ ৷ বর্ষাজলে ভরা আমাদের বেলগাছিয়া বাড়ির সেই গলিপথ ৷ আমায় কোলে নিয়ে সে জল পারাপার করছেন মা - পাছে স্কুলের জুতো মোজা না ভিজে যায় ৷ নদী দেখা তখনো হয়নি আমার ৷ দেখা হয়নি একটি পূর্ণ --অহর্নিশি বয়ে যাওয়া জলরাশি ৷ জলযানের চলাচল ৷ তাই বর্ষার জল নামলেই ভাড়াবাড়ির ঐ গলিটাই হয়ে যেত আমার নদী ৷ হয়ে যেত চোখের পাতা ফেলতে না ফেলতেই ৷ ধরুন - বেলাবেলি আকাশ মন করেছে জল ঝড়াবে ৷ আর আমি চোখ বুজে ঘাপটি মেরে আছি কখন আমার চলার রাস্তাটি হয়ে উঠবে নদী ৷ আমি বলতাম গলিনদী ৷ আমার বয়সী খুকুরা রাস্তায় জল জমলে কাগজের খেলনা ভাসাত ৷ আর আমি মায়ের কোলে চড়ে জলরাস্তা পার হতে হতে মাকেই ভাবতাম নৌকা ৷ সেসময় মায়ের কোলে চড়ার স্টাইলটাই বদলে যেত আমার ৷ দু’পা ছড়িয়ে দিতাম মায়ের মাংস পেটের দুপাশে ৷ আর লালরঙা পিঠে সমানে চাটিয়ে যেতাম দুহাতের তেলো দিয়ে ৷ আমার হাত বৈঠা আর আমার দাঁড় টানা ৷ যদি পড়ে যাই ---- পিঠে লাগা সত্ত্বেও মা হজম করতেন আমার মারকাটারি দাঁড় টানা ৷ গলি যত শেষ হতো, শুকনো পথ যত কাছে আসত, মায়ের পিঠে দাঁড়ের পিটুনি বাড়ত ৷ বাড়তে...

লুনা রাহনুমার গল্প

Image
বন্ধু কুটুম আনিকার মন ভালো নেই। সারাদিন স্কুলে অনেক ধকল গিয়েছে। একটার পর একটা ক্লাস। খেলার সময় থাকে অনেক অল্প। তার উপর আজকেই একসাথে তিনটি ক্লাস টেস্টের রেজাল্ট দিয়েছে। ইংরেজি আর ভূগোলে পাশ করলেও অংকে ডাব্বা মেরেছে। ক্লাস থ্রি থেকে ফোরে উঠার সময় স্কুলের হেড আপা বারবার করে বলেছে, “ফোরে উঠে যাচ্ছ কিন্তু তুমি, এখন তোমাকে লেখাপড়ায় আরো অনেক মনোযোগ দিতে হবে।“ মা ও বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে আনিকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়েছিল সে মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু ক্লাস ফোরে উঠেও দেখা যাচ্ছে লেখাপড়ায় বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না। বান্ধবীদের সাথে পুতুল দিয়ে খেলতে যতটা ভালো লাগে, পড়তে বসলে ঠিক তার উল্টোটা লাগে। বরং জানালার গ্রিল ধরে বাইরে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া ওর বয়সী ছেলে মেয়েদেরকে দেখতেই বেশি ভালো লাগে আনিকার। ওদের কতো মজা। স্কুলে যেতে হয় না। সময় মতো ঘুমাতে যেতে হয় না। অথচ আনিকাকে ছুটতে হয় ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে। একদম ভাল্লাগে না তার। আনিকা ভেবেছিলো স্কুল থেকে ফিরে মাকে অংকের রেজাল্টের কথাটি জানাবে, গোপনে। ভাইয়া যদি জানে আনিকা অংকে মাত্র ২১ পেয়েছে, তাহলে আর রক্ষা নাই। ফেলটু ফেলটু করে মাথা খারাপ...

লুৎফর রহমান রিটনের ছড়া

Image
  য়্যারোপ্লেনে লেখা ছড়া বাঁশ ঝাড়ে কী থাকে রে?-- বাঁশ বাঁশ বাঁশ! ঝিঁঝিঁ ডাক শুনতে কি-- পাস পাস পাস? পুকুরে সাঁতার কাটে-- হাঁস হাঁস হাঁস! ডাবের ভেতরে মজা--শাস শাস শাস! কাশবনে শাদা শাদা-- কাশ কাশ কাশ! বৎসরে থাকে বারো-- মাস মাস মাস! ভুল পথে কেনো তুই-- যাস যাস যাস! ইশকুলে কানমলা-- খাস খাস খাস! কাতুকুতু লাগে বুঝি?-- হাস হাস হাস! সেল, মানে মূল্যটা-- হ্রাস হ্রাস হ্রাস! ভেবে দ্যাখ করতে কি-- চাস চাস চাস? বড় হয়ে কাটবি কি-- ঘাস ঘাস ঘাস? একশোতে তেত্রিশ?-- পাশ পাশ পাশ! তুই ফেল? চড় খাবি-- ঠাস ঠাস ঠাস! ০৮ জুন ২০২২ আকাশ পথ, হিউস্টন টু টরন্টো এলটিচ্যুড ৩১,৫০০ফিট লোকাল টাইম সকাল ০৯টা ১০মিনিট

অহনা সরকারের গল্প

Image
  আমার স্বপ্নপূরণের দিন ফ্রেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ । সেদিন ছিল আমার স্বপ্নপূরণের দিন , রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পালা । রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি আমরা । রাতে গিয়ে পৌঁছাই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে । সেখান থেকে আবার ট্রেনে উঠে ভোরে চট্টগ্রাম পৌঁছাই । সেখানে আমরা একদিনে পতেঙ্গা বীচ , বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ও ফয়েজ লেক পরিদর্শন করি । পরদিন ভোরে বাসে উঠে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হই । বাসে যাবার সময় আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম । কক্সবাজারে নেমে , গেলাম সমুদ্র সৈকতে । আমাদের থাকার জন্য বুকড হোটেল ছিল সৈকতের খুবই কাছে । সেখানকার রুম থেকেই সমুদ্র সৈকত দেখা যায় । সমুদ্রের গর্জন শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম সকলে । সেখান থেকে হোটেলে যেতে ইচ্ছে করছিল না ! আমরা হোটেলে গিয়ে খাওয়া - দাওয়া করলাম । রুমে ব্যাগ রেখে দৌড়ে চলে এলাম সমুদ্র সৈকতে । সেখানে আমরা স্নান করলাম আর পেলাম অনেক শামুক - ঝিনুক । সমুদ্রের পানি ...